ড্রোন ক্যামেরা নিয়ে জানুন!

 

ড্রোন ক্যামেরা


আজকে আমরা কথা বলবো Drone Camera নিয়ে। প্রযুক্তির কল্যাণে এখন প্রায় সবাই ড্রোন শব্দটির সাথে পরিচিত। ড্রোন এর ব্যবহার নানা কাজে এখন অহরহ হচ্ছে। সার্ভে থেকে শুরু করে এডকেশন, যুদ্ধ, এন্টারটেইনমেন্ট প্রায় সব সেক্টরেই এখন কম বেশী ড্রোন এর ব্যবহার লক্ষ করা যায়।

ড্রোন নানা ধরণের হয়ে থাকে নানা প্রকারের হয়ে থাকে। ড্রোন ক্যামেরা কি, ড্রোন ক্যামেরার ব্যবহার, ড্রোন ক্যামেরা ব্যবহার এর শর্ত, কোন ড্রোনটি ভালো হবে এবং কোথায় পাবেন ড্রোন ক্যামেরা এইসব কমন প্রশ্নের উত্তর জানবো আজকের এই আর্টিকেলে। তাহলে চলুন শুরু করা যাক...


🌀 ড্রোন ক্যামেরা কি? 


 - সহজ ভাবে বলতে গেলে ড্রোন হচ্ছে এক ধরণের ইলেকট্রনিক ডিভাইস যাকে আপনি আকাশে একটি নিদিষ্ট উচ্চতাতে নিদিষ্ট সময় পর্যন্ত উড়াতে পারবেন, এবং তার সাথে সংযুক্ত  থাকা ক্যামেরা দিয়ে উপর থেকে ভিডিও বা ইমেজ শূট করতে পারবেন।


🌀 ড্রোন ক্যামেরা কিভাবে ব্যবহার করে? 


- বাজারে আজকাল অনেক মডেলের ড্রোন ক্যামেরা রয়েছে, প্রত্যেকটি ড্রোন এর সাথে নিজস্ব কন্টোলার থাকে যা দিয়ে ড্রোন এবং ক্যামেরাটিকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

আপনার কাছে ড্রোন থাকলে তার মডেল লিখে ইউটিউব এ how to control লিখে সার্চ করলে ড্রোনটি কন্টোল করার উপায় শিখে যাবেন।


🌀 সবাই কি ড্রোন ক্যামেরা ব্যবহার করতে পারবে? 


- হ্যা, প্রায় সবাই ই ড্রোন ক্যামেরা ব্যবহার করতে পারবে, তবে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নিয়ম রয়েছে ড্রোন এর ব্যবহার নিয়ে। মডেল, ওজন, জায়গা ইত্যাদি ভেদে ড্রোন ব্যবহার এর অনেক নিয়ম কানুন রয়েছে।


🌀 বাংলাদেশ এ ড্রোন ব্যবহার এর নিয়ম কানুন কি কি? 


- বাংলাদেশে ও ড্রোন ব্যবহার এর নিদিষ্ট কিছু নীতিমালা রয়েছে এগুলো ভংগ করলে আপনার আইনত শাস্তি হতে পারে। চলুন জেনে নেই সেগুলো কি কি..


- আপনি ৫ কেজি এর নিচের ওজন এর ড্রোন ব্যবহার করতে পারবেন এতে কারো পারমিশন লাগবে নাহ কিন্তু যদি আপনার ড্রোনটির ওজন ৫ কেজির বেশী হয় তাহলে তা উড়ানোর জন্য আপনাকে বাংলাদেশ মিলিটারি এর পারমিশন নিতে হবে। যা অনেক ঝামেলার কাজ।


- আপনি যদি প্রফেশনাল কাজ যেমন ল্যান্ড সার্ভে করতে ড্রোন ব্যবহার করেন সেক্ষেত্রে ও আপনাকে পারমিশন নিতে হবে। 


- যেকোনো বিমানবন্দর এর ৫ কিলোমিটার এর ভিতরে আপনি ড্রোন উড়াতে পারবেন নাহ। এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ


- অনুমতি ছাড়া রাতে ড্রোন চালানো যাবে নাহ।


- কোনো VVIP (very very Important person) এর সভা সমাবেশ থাকলে উক্ত এরিয়াতে ৩ কিলোমিটার পযর্ন্ত,  ৩ দিন আগে থেকে ড্রোন উড্ডয়ন নিষিদ্ধ থাকবে।


উপরের নিয়মগুলো ভংগ করলে আপনি আইনত শাস্তির আওতায় পড়বেন। 


 🌀 ড্রোন কিনবেন কি দেখে? 


চলুন জেনে নেই ড্রোন ক্যামেরা কেনার আগে কি কি বিষয়গুলো লক্ষ রাখবেন।


- ড্রোনটি কতো সময় আকাশে ফ্লাই করতে পারবে তা জেনে নিন।


- ড্রোনটি কতো মিটার উপরে তুলতে পারবেন তা খেয়াল রাখুন।


- ড্রোনটির ব্যাটারী ব্যাকআপ কতটুকু জানুন, আপনাকে কতো সময় সার্ভিস দিতে পারবে তা জানা খুবই জরুরী।


- ড্রোনটির ক্যামের নিয়ে জানুন, ক্যামেরটি কতো রেজুলেশন এর, কি কি ফরম্যাট এ রেকর্ড করতে পারবেন তা জানুন।


- সবশেষে ড্রোনটির ওজন এর দিকে খেয়াল রাখুন, কারণ ৫ কেজির ড্রোন ফ্লাই করাতে আপনার আলাদা করে পারমিশন এর প্রয়োজন হবে।


🌀  বাংলাদেশে এ  বাজেটে ভালো ড্রোন কোনটি? 



- ড্রোন জগতে ডিজেআই (Dji) একটি পরিচিত নাম, ডিজেআই এর অনেক নামীদামী ড্রোন যা বিগিনার থেকে প্রফেশনাল অনেকেই ব্যবহার করে থাকেন।


- আপনারা যদি ভালো কোয়ালিটির ড্রোন কিনতে চান, লম্বা সময় ধরে ভালো রেকর্ডি করতে চান তাহলে আপনাদের আমি Dji mini 2 ড্রোনটি সাজেস্ট করবো।


- Dji mini 2 তে রয়েছে 4k 30fps এর ভিডিও রেকর্ড করার ক্ষমতা।


- আমি সাজেস্ট করবো এর Fly more combo ভার্সনটি কেনার জন্য এতে আপনারা ৩ টি ব্যাটারী সাথে পাবেন। এবং প্রত্যেকটি ব্যটারী আরাউন্ড ২৫ মিনিট করে ব্যাটারী ব্যাকআপ দিবে।


- Dji এর mini 2 এর fly more combo টির দাম পড়বে প্রায় ৭০ হাজার টাকা, ড্রোনটি বিগিনার দের জন্য + এতে আপনি প্রফেশনাল সব কাজই করতে পারবেন। 


- কম টাকায় ড্রোন অনেক আছে কিন্তু কিনলে তা বেশীদিন ঠিকবে নাহ এবং আপনি ব্যবহার করেও স্যাটিসফাইড হবেন নাহ। তাই সময় নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিন।


🌀 ড্রোন কই পাবো? কোথা থেকে কিনবো?


- বাংলাদেশ এ ড্রোন কেনা বা রিপেয়ারিং এর জন্য Drone Square পেজটি অনেক ভালো সার্ভিস দিয়ে থাকে।


- ফেসবুকে Drone Square লিখে সার্চ করলেই পেজটি পেয়ে যাবেন।


ড্রোন ব্যবহার করার নানা কারণ থাকে প্রথমে এটা ঠিক করুন আপনি ঠিক কি কারণে ড্রোন কিনতে চাইছেন।  যারা বিগিনার + একটি ভালো কোয়ালিটির লং লাষ্টিং ড্রোন কিনতে চাইছেন তারা Dji এর ড্রোনগুলো চেক করতে পারেন।

নাম না জানা চায়না ড্রোন কিনার আগে মাথার রাখবেন জিনিস যেমন সস্তা তেমনি সার্ভিস ও খারাপ পাবেন। তাই আপনার প্রয়োজন বুঝে ড্রোন কিনবেন। আর ড্রোন উড়ানোর আগে নিয়ম কানুনগুলো ভালো করে জেনে নিবেন। ৫ কেজির উপরে ড্রোন কিনতে যাবেন না এতে পারমিশন এর জন্য অনেক ঝক্কি জামেলা পোহাবেন।


আর্টিকেলটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন নাহ।

টেকচাচা এর সাথেই থাকুন।

ধন্যবাদ সবাইকে।

Previous Post
Next Post
Related Posts